শিরোনাম

12/recent/ticker-posts

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্ম/হত্যার প্রবনতা নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ


 স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আ/ত্ম/হ/ত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিবিসি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ২০২১ সালেই ১০১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আ/ত্ম/হ/ত্যা করেছে। স্কুল, কলেজের পরিসংখ্যান যোগ করলে তা বেড়ে যাবে আরো কয়েকগুণ।


এর বিপরীতে মাদরাসাপড়ুয়াদের আ/ত্ম/হ/ত্যার প্রবণতা নেই বললেই চলে। অথচ যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়ারা আ/ত্ম/হত্যা করে, তা পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, মাদরাসাপড়ুয়াদেরই সবচেয়ে বেশি আ/ত্ম/হত্যা করার কথা। 


মাদরাসাপড়ুয়ারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র, সবখানে অবহেলিত। তাদের সামনে উন্নত জীবনের হাতছানি নেই। নেই ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। জেনারেল পড়ুয়াদের মতো উন্নত পরিবেশ তারা পায় না। শত প্রতিকূলতার পরও মাদরাসাপড়ুয়ারা কেন আত্মহত্যা করে না? কেন তারা জীবনের জয়গান গায়? 


তার কারণ—শৈশবেই তাদের হৃদয় জমিনে পুঁতে দেয়া হয় ঈমানের বীজ। ঈমান তাদেরকে শেখায়—এই জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। আল্লাহর এই আমানতের খেয়ানত করা মহাপাপ। তাদেরকে আরো শেখানো হয়, এই জীবনই একমাত্র জীবন নয়। নশ্বর এ জীবনের পরে অপেক্ষা করছে অনন্তকালের প্রকৃত জীবন। 


এই জীবনের দুঃখ-কষ্ট যারা ধৈর্যের সাথে জয় করতে পারবে, মৃত্যুর পর তাদের জন্য রয়েছে অনন্ত সুখের জান্নাত। তাদেরকে আরো শেখানো হয় তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি ভরসা। এ কারণে শত বিপদেও তারা ভেঙে পড়ে না। নিরাশ হয় না। আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা তাদের শক্তি যোগায়। অন্যরা যেটাকে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মনে করে, তারা তখনও আল্লাহর সাহায্যের প্রত্যাশা করে। 


নবীজি সা. বলেছেন, অন্তরের সচ্ছলতা প্রকৃত সচ্ছলতা। নবীজির সা. এই হাদিসও তারা মনে-প্রাণে ধারণ করে। তাদের পকেটে পয়সা কম থাকতে পারে, কিন্তু অন্তরের দিক থেকে তারা থাকে পরিতৃপ্ত, ধনবান। তারা জানে সব বিচারের পর আসল বিচার হবে। দুনিয়ার সকল অবিচার, অবহেলা এবং অপমানেরও বিচার সেদিন হবে। সেদিন সবাই সুবিচার পাবে। সুতরাং সব হারানোর কিছু নেই। এইসব গুণের কারণে মাদরাসায় আ/ত্ম/হত্যার সংখ্যা অনেক কম। 


জেনারেলপড়ুয়ারা আমাদেরই ভাই-বোন, আমাদেরই সন্তান। তাদেরকে আমরা মাদরাসার বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছি না। সমস্যার গোড়া চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি মাত্র। 


আমাদের সন্তানদের ভেতর যদি দীনি চেতনা, পাপবোধ, তাওয়াক্কুল, আখিরাতের প্রতি ঈমান, ছড়িয়ে দিতে পারি, তাদেরকে যদি অতিবস্তুবাদিতা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস থেকে রক্ষা করতে পারি, ইনশাআল্লাহ, তারা ধৈর্য ধারণ ও সহনশীলতা শিখবে, আ/ত্ম/হ/ননের পথে পা বাড়াবে না। 


এভাবেই আমাদের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বারবার ফিরে আসে। আমরা কি তা থেকে শিক্ষা নিতে পারি?


       এ কথাগুলো বলেন বিশিষ্ট প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জনাব   শায়খ আহমাদুল্লাহ ।

তিনি তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে এই কথাগুলো তুলে ধরেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ