নানা আয়োজনে ভোলায় "ভোলা মুক্ত দিবস" পালিত
এইচ এম হাছনাইন, ভোলা প্রতিনিধি
জেলায় আজ র ্যালি ও আলােচনা সভার মধ্য দিয়ে "ভােলা মুক্ত দিবস"পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রােববার সকাল সাড়ে১০ টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক
কার্যালয় চত্ব্র থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র ্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মােমিন টুলু, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মােঃ কামাল হােসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন কুমার সাহা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মােঃ তৌহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযােদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মােঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসার মােঃ নুরুল আমিন।
এসময় বক্তারা বলেন, আজকের এ দিনে ভােলা হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। এটি ভােলার মানুষের জন্য একটি সমারণীয় দিন। মুক্তিযােদ্ধাদের প্রবল প্রতিরােধের মুখে পাকবাহিনী টিকতে না পেরে লঞ্চযােগে এদিন সকালে পালিয়ে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলার মুক্তিকামী জনতা বিজয় উল্লাস করে এবং ভোলার আকাশে উড়ে লাল সবুজের পতাকা।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর তথা আজকের এই দিনে ভোলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশ স্বাধীন হলেও ভােলা স্বাধীন হয়েছিলো ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর। মুক্তিযােদ্ধাদের প্রবল চাপের মুখে পাকবাহিনী কোনঠাসা হয় পড়ে। নিভজদের জীবন বাঁচাতে ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কার্গো লঞ্চ যোগে ভােলা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাদের চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত হয় ভালা। পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে বর্তমান ভালা কালেক্টরেট ভবনের সামনের জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের ছাদে পতাকা উড়িয়ে ভােলাকে হানাদার মুক্ত ঘােষণা করে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকবাহিনী চলে যাওয়ার পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযােদ্ধারা আশপাশ থেকে শহরে প্রবেশ করে। শহরের ওয়াপদা, পাওয়ার হাউজ ও পরবর্তীতে জেলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং শুরু হয় আনন্দ মিছিল।
0 মন্তব্যসমূহ